শেয়ার বাজার

সিলেটের
মহাজনপট্টি থেকে আটক বিসু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

মহাজনপট্টি থেকে আটক বিসু

সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানার মহাজনপট্টি থেকে বিসু বাঁশফোড় নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি একজন মাদক ব্যবসায়ী। রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেল। তারা জানায়, শনিবার (৬ জুন) রাত ১১টার দিকে বন্দরবাজার ফাঁড়ির একদল পুলিশ সদস্য তাকে আটক করে। বিসু বাঁশফোড় কোতোয়ালী থানার কাষ্টঘর সুইপার কলোনির ফকির চাঁন ও রেনু মালার ছেলে। আটকের সময় তার হেফাজত থেকে ১৫৫ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।

 তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (নং ৬/৭/৬/২৬) দায়ের করে বিসু বাঁশফোড়কে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো.  মনজুরুল আলম।সংবাদ সাবস্ক্রিপশন

 


সিলেটে প্রবাসী শাহজাহানের বিরুদ্ধে
খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬

খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট মহানগরীর শাহপরান থানাধীন খাদিম এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল করে অবৈধভাবে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রবাসী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শাহজাহান নামে ওই ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে সরকারি ভূমির ওপর বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার বহর মৌজা, জে এল নং-৭০ এর আওতাধীন সরকারি খাস জমির ১৪২ ও ২০০১ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ১২ শতক ভূমি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখে সেখানে ফাঁকা ওয়ালের স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, কোনো বৈধ কাগজপত্র কিংবা অনুমোদন ছাড়াই এই নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারির অভাবে একের পর এক খাস জমি দখলের ঘটনা ঘটছে। খাদিম এলাকার এই ঘটনাও তারই আরেকটি উদাহরণ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “সরকারি খাস জমি সাধারণ মানুষের সম্পদ। অথচ প্রভাবশালী মহল নানা কৌশলে এসব জমি দখল করে ব্যক্তিগত স্থাপনা গড়ে তুলছে। প্রশাসনের নীরবতায় ভূমিখেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন ভবনটি ঘিরে এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শাহজাহানের ব্যবহৃত বিদেশি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। সরকারি খাস জমি দখলের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সিলেটজুড়ে সরকারি খাস জমি দখলের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক অভিযান ও নিয়মিত নজরদারি না থাকলে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।


সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে
হামলায় আহত শ্রমিকনেতা আবুল হোসেনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬

হামলায় আহত শ্রমিকনেতা আবুল হোসেনের মৃত্যু

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে আততায়ীর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন শ্রমিকনেতা আবুল হোসেন (৩৪)। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। আবুল হোসেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের গৌরীনগর গ্রামের মৃত আক্রম আলীর ছেলে। তার তিনটি শিশু কন্যাসন্তান রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এস এম আসাদুজ্জামান জুয়েল ও কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক সুজন চন্দ্র কর্মকার।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ধোপাগুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার খাগাইল গ্রামের একদল আবুল হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে রাস্তায় ফেলে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তিনি আইসিইউতে এত দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক সুজন চন্দ্র কর্মকার বলেন, সকালে আবুল হোসেন মারা গেছেন। তার পরিবার মামলা করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।



১৯ মে থেকে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৬

১৯ মে থেকে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দয়েরের প্রতিবাদে সিলেট বিভাগে অনির্দিষ্টকালের সড়ক পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়েছে। ১৮ মে’র মধ্যে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার না হলে ১৯ মে থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির জরুরী সভায় এই কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়।

এরআগে গত ২৭ এপ্রিল দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত টার্মিনাল এলাকায় দফায় দফায় শ্রমিকদের দুই পক্ষে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। সংঘর্ষে আহত দুই শ্রমিক পরে মারা যান। মারা যাওয়া শ্রমিক ছাবলু মিয়ার বাবা গত ৫ মে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি হাজী ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ, সাবেক কোষাধ্যক্ষ সামছুল হক মানিক ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুর মিয়াসহ ২৯ নামের উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ৬০ জনকে। এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতেই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা।

বৃহস্পতিবারের সভায় ফেডারেশনের বিভাগীয় নেতৃবৃন্দের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ১৯ মে মঙ্গলবার ভোর ৬ টা থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালনের জন্য সর্বস্তরের পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান তারা। সভায় ফেডারেশনের বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার প্রতিনিধিত্বশীল সড়ক পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সজিব আলীর পরিচালনা অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন- সুনামগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক, সুনামগঞ্জ জেলা ট্রাক পিকাপ কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজুর নুর, সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন, সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কালা মিয়া, মৌলভীবাজার জেলা ট্রাক পিকাপ কার্ভাড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি অদুদ আহমদ, সিলেট জেলা ট্রাক পিকাপ কার্ভড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি কাওসার আহমদ, কোষাধ্যক্ষ বাদল আহমদ, সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আজাদ মিয়া, সিলেট জেলা ইমা লেগুনা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইনসান আলী, সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত আবুল, প্রচার সম্পাদক হারিছ আলী প্রমূখ।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ২৭ এপ্রিল সিলেট কদমতলী বাস টার্মিনালে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের শীর্ষ সংগঠনের বিভাগীয় সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ নিরপরাধ শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে আসামি করার ঘটনায় সর্বস্তরের শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ক্ষুব্ধ। আমরা উক্ত ঘটনা ও অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী জানাচ্ছি। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের ঐক্য বিনষ্টের কোন ষড়যন্ত্র শ্রমিক সমাজ মেনে নিবে না। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি সেদিন ঘটনার সময় ফেডারেশনের বিভাগীয় সভাপতি হাজী ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ নাজিরবাজারে শ্রমিক সংগঠনের নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা ঘটনা শুনে সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন। সেই ঘটনায় নিরীহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে আসামি করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে আগামী ১৯ মে ভোর ৬টা থেকে সিলেট বিভাগে সর্বাত্মক সড়ক পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতি সফলের জন্য শ্রমিক ভাইদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।