শেয়ার বাজার

নিরাপত্তা সরঞ্জাম বিতরণ অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

নিরাপত্তা সরঞ্জাম বিতরণ অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক

দায়িত্ব পালনের সময় প্রত্যেক কর্মীকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কাজই জীবনের চেয়ে বড় নয়। তাই দায়িত্ব পালনের সময় প্রত্যেক কর্মীকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করে নিরাপদে কাজ করতে হবে। সোমবার (১১ মে) দুপুরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সভাকক্ষে কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ শাখার কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তা সরঞ্জাম বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, “বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন-রাত কাজ করে নগরবাসীকে সেবা দিচ্ছেন। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তারা নগরের আলোকায়ন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের এই পরিশ্রম ও ত্যাগের কারণেই নগরবাসী স্বাভাবিক সেবা পাচ্ছেন। তাই কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি বলেন, “নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন সবসময় আন্তরিক। ভবিষ্যতেও কর্মীদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ও সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশিক নূর বলেন, “নগরবাসীকে সেবা দেওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কর্মীদের নিরাপত্তাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সময় প্রত্যেক কর্মীকে অবশ্যই সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে।”

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ শাখার কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তা বেল্ট, হেলমেট, গগলস, গ্লাভস, সুরক্ষা জুতা, ক্যাপসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।

র‌্যাব-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জে
৬০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬

৬০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক : হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৬০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৯। এসময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-৯ সূত্র জানায়, এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে র‌্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গত ২৫ মে রাত আনুমানিক ১০টা ৩৫ মিনিটে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানাধীন মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, একটি সবুজ রঙের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বিপুল পরিমাণ গাঁজা নিয়ে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী মাধবপুরের দিকে যাচ্ছে।

সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা রাত আনুমানিক ১০টা ৫৫ মিনিটে মাধবপুর উপজেলার যুগেশ চন্দ্র হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন জগদীশপুর বাজার-টুতেমুনিয়া সড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে। এসময় সন্দেহভাজন একটি সিএনজিকে থামানোর সংকেত দিলে চালক দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে র‌্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করেন।

আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তার হেফাজতে গাঁজা থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেখানো মতে সিএনজির যাত্রী আসনের নিচে রাখা চারটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা তল্লাশি করে স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তি হলেন মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার রফিনগর গ্রামের মো. নাছির উদ্দিন (৩৯)। তিনি ডুগাই মিয়ার ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাছির উদ্দিন র‌্যাবকে জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে তিনি তা নিজ হেফাজতে রেখেছিলেন। র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে তাকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ মাধবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে র‌্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।



আর কতো রামিসা মরলে আমাদের সবার টনক নড়বে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬

আর কতো রামিসা মরলে আমাদের সবার টনক নড়বে?

সুনির্মল সেন: রামিসার জন্য আজ আর শোক নয়! রামিসা হত্যার দৃশ্যমান বিচার চাই! কঠিন থেকে কঠিনতর বিচার চাই। আর কতো শিশুর রক্ত ঝরলে এ দেশের টনক নড়বে? রামিসার বয়স কতোই বা ছিলো? এমন একটি বয়স, যখন শিশুর হাতে থাকার কথা বই, খাতা, পেন্সিল আর স্কুলব্যাগ। এমন একটি বয়স,  যখন পৃথিবীকে চেনার কথা মায়ের হাত ধরে, স্কুলের পথে, বন্ধুর হাসিতে, ছোট ছোট স্বপ্নে। অথচ সেই শিশুটিই আজ আমাদের সামনে রেখে গেছে এক ভয়াবহ প্রশ্ন! এই দেশে শিশুদের জন্য নিরাপদ জায়গা কোথায়?

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে সংঘটিত শিশু রামিসা হত্যাকান্ড নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে আমাদের প্রশ্ন, এ নির্মম নৃশংস হত্যার শিকার শিশু রামিসা আক্তারের বাবার বুকফাটা আর্তনাদ ও ক্ষোভের যে বিবরণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা কি সমাজের বিবেককে নাড়া দেবে? একটি সাত বছরের শিশুকে যে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে, তা আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দূর্বল দিকটি উন্মোচিত করেছে। 

এই নির্মম হত্যাকান্ড আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে দেশে সামাজিক মূল্যবোধের কতোটা অধঃপতন ঘটেছে। একই সাথে শিশু রামিসার বাবার ক্ষোভ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি না হওয়ার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ। বস্তুত এ দায়মুক্তির সংস্কৃতি নতুন নতুন অপরাধের জন্ম দিচ্ছে।

আমাদের সমাজে শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা দিনের পর দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। পারিবারিক শত্রুতা, জমিজমা নিয়ে বিরোধ কিংবা তুচ্ছ কোনো ঘটনার প্রতিশোধ নিতে এখন কোমলমতি শিশুদের টার্গেট করা হচ্ছে, যা চরম বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। বস্তুত শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাকান্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এগুলো বহু বছর ধরে চলে আসা নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক দায়িত্বহীনতা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রতিফলন। মাদকের বিস্তারও এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ।

রাজধানী পল্লবীর এ হত্যাকান্ড আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে আমরা কতোটা ব্যর্থ হয়েছি। রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এর কারণ যথাযথভাবে খুঁজে বের করে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে।সাম্প্রতিক রামিসা হত্যাকান্ড সহ ইতোপূর্বের সকল হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অপরাধীর দ্রুত সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তবে এ ধরণের অপরাধ রোধে শুধু আইন বা সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর জন্য শক্তিশালী সামাজিক আন্দালন গড়ে তোলা এখন জরুরী হয়ে পড়েছে। যে সব কারণে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে, সেসব বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। আর কোনো মা -বাবা ও বোনের বুক যেনো এভাবে খালি না হয়, আর কোনো পরিবারকে যেনো এমন নির্মম, নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্র ও সমাজকে। সর্বশেষে বলতে হয়, "আর কতো রামিসা মরলে আমাদের সবার টনক নড়বে?" (লেখক: কবি ও গণমাধ্যমকর্মী)


বিছনাকান্দিতে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

বিছনাকান্দিতে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দিতে ঘুরতে গিয়ে পানিতে ডুবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিক্ষার্থীর নাম শান্ত চন্দ্র বণিক (২২)। তিনি শাবিপ্রবির পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে শান্ত তার কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে বিছনাকান্দিতে বেড়াতে যান। পরে বিকেলের দিকে তারা জিরো পয়েন্ট এলাকায় পানিতে নামেন। এ সময় হঠাৎ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও তীব্র স্রোতের কারণে শান্তসহ কয়েকজন পানিতে তলিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন দ্রুত নৌকা নিয়ে উদ্ধার কাজে নামলে শান্তর দুই সহপাঠীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে শান্ত নিখোঁজ থাকায় পরে ফায়ার সার্ভিস, টুরিস্ট পুলিশ ও গোয়াইনঘাট থানা-পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার তল্লাশির পর রাতের দিকে উদ্ধারকারী দল তার মরদেহ পানির নিচ থেকে উদ্ধার করে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শান্ত ছিলেন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার অকাল মৃত্যুতে সহপাঠীদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বর্ষাকালে বিছনাকান্দিতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল নামা স্বাভাবিক ঘটনা। এ সময় পর্যটকদের অতিরিক্ত সতর্কতা ছাড়া পানিতে নামা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।