শেয়ার বাজার

অ্যাটর্নি জেনারেল পদে আলোচনায় যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

অ্যাটর্নি জেনারেল পদে আলোচনায় যারা

বাংলাদেশের পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল কে হচ্ছেন—এ প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের আদালতপাড়ায় চলছে নানান গুঞ্জন। বিশেষত বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন—এমন ঘোষণার পর থেকে সেই গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে আইনাঙ্গনের বাতাসে। এরপর থেকেই সামনে আসছে অনেকের নাম। বিদ্যমান অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে থেকে কাউকে এ পদে উন্নীত করা হবে, নাকি নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়া হবে—আছে এমন প্রশ্নও।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের জন্য সরকার চিন্তাভাবনা করছে। এক্ষেত্রে কয়েকজনের নাম খুব জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে আছেন—অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আরশাদুর রউফ ও ব্যারিস্টার অনীক আর হক। এছাড়া বিএনপিপন্থি প্রভাবশালী আইনজীবীদের নামও শোনা যাচ্ছে। যাদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদকও রয়েছেন।

সংবিধানের ৬৪ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগদান করিবেন।’

বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন—এমন খবর এখন সর্বত্র। তিনি যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন তাহলে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। তাই, এ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোর লবিং চালাচ্ছেন অনেক আইনজীবী।

সূত্রের তথ্য, পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের জন্য যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলনের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল মনোনয়ন নিশ্চিত হলে পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন। তাই আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, কে হচ্ছেন পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল?

সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন অ্যাটর্নি জেনারেল। সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করবেন।’ উপ-অনুচ্ছেদ ৪-এ বলা হয়েছে, ‘তিনি রাষ্ট্রপতির সন্তোষ অনুযায়ী স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।’

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী জাগো নিউজেকে বলেন, তফসিল ঘোষণা এবং মনোনয়নপত্র কেনার পর রাষ্ট্রের বর্তমান প্রধান আইন কর্মকর্তাকে পদত্যাগ করলেই হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেবেন।

বর্তমানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে রয়েছেন, মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার ভুঁঞা, মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও মোহাম্মদ অনীক আর হক। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়েই কর্মরত রয়েছেন তারা। সুপ্রিম কোর্ট বার থেকে নিয়োগ দেওয়ার মতো নাম শোনা যাচ্ছে অনেকের। তাদের মধ্যে রয়েছেন—ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন দোলন, ব্যারিস্টার এম. বদরুদ্দোজা বাদল এবং ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে থেকে পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পাওয়ার আলোচনায় রয়েছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। একজন বিচক্ষণ আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বারে তার সুনাম রয়েছে। তিনি সাবেক বিচারপতি ও সাবেক সফল প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুর রউফের ছেলে। ব্যারিস্টার রউফ বিভিন্ন সময়ে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যারিস্টার অনীক আর হক

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার অনীক আর হক বর্তমানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সমন্বয়কদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ব্যারিস্টার অনীক আর হকের নামও আলোচনায় রয়েছে।

ব্যারিস্টার এম. বদরুদ্দোজা বাদল

বিএনপিপন্থি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত তিনি। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের আহ্বায়কও। দলীয় আদর্শ থাকলেও সব মত ও পথের আইনজীবীদের কাছে তিনি জনপ্রিয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুলা) কমিটির আহ্বায়ক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল রিটের অন্যতম আইনজীবীও।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল

ব্যারিস্টার কাজল বাংলাদেশের আইন অঙ্গনে সুপরিচিত মুখ। অভিজ্ঞ ও মেধাবী আইনজীবী হিসেবেও পরিচিত। বিএনপির প্যানেল থেকে তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের দুইবারের নির্বাচিত সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবিধানিক বিভিন্ন আলোচিত মামলার শুনানিতে তিনি দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুসের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

আব্দুল জব্বার ভুঁইয়া

সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবীকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তাদের একজন অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার ভুঁইয়া। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তাদের নিয়োগ দিয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন

ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন বারের সুপরিচিতি আইনজীবী। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে আইনি লড়াই করেছেন। জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায়ও তিনি ছিলেন আসামিদের আইনজীবী। সর্বশেষ, গ্রামীণফোন তথা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসেরও আইনজীবী ছিলেন।

ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলন

সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলন ‘সার্ভিস ম্যাটার’ সংক্রান্ত মামলার জন্য খ্যাতি পান। বেশ কিছু মামলার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আলোচনায় আসেন। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, ১৭ বছর আগে অনুষ্ঠিত ২৭তম বিসিএস উত্তীর্ণদের নিয়োগবঞ্চিত এক হাজার ১৩৭ জনের চাকরি ফেরত দিতে আপিল বিভাগ থেকে রায় পাওয়া। চাকরিচ্যুত দুদক কর্মকর্তা মো. শরীফউদ্দিনের আইনজীবীও তিনি।

সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রতীকী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পক্ষে আইনি লড়াই চালান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কট্টর সমালোচকও তিনি।

শরীফ ভূইয়া

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে আনা ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে ১৪ বছর আগে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়ার নামও রয়েছে পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে।

বিএম ইলিয়াস কচি

সুপ্রিম কোর্ট বারের সুপরিচিত মুখ অ্যাডভোকেট বিএম ইলিয়াস কচি। তিনি সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তবে ২০১৭-১৮ মেয়াদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা তিনি পরিচালনা করেছেন।

এছাড়া বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজীও অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পাওয়ার আলোচনায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল, ২০২৬

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার ৩০ আসামির মধ্যে ৬ জন গ্রেফতার আছেন। তারা হলেন—বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার ২৪ আসামি বর্তমানে পলাতক। তাদের মধ্যে রয়েছেন—রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাকে হত্যার ভিডিও সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন আর পুলিশ তার বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড আন্দোলনকে বেগবান করে।


দীঘলবাক ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে মাইকিং ও ভিডিও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬

দীঘলবাক ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে মাইকিং ও ভিডিও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

নবীগঞ্জ উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমধর্মী ও কার্যকর প্রচার-প্রচারণামূলক মাইকিং ও ভিডিও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ০৪ নং দিঘলবাক ইউনিয়ন পরিষদের ০৯টি ওয়ার্ডে মাইকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের এবার সমূহ বিষয়ক প্রচার এবং সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়। দীঘবাক ইউনিয়নের কামারগাঁ বাজারে প্রজেক্টরের মাধ্যমে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের  একটি সচেতনতামূলক নাটক প্রদর্শন করা হয়।

নাটকের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের ভূমিকা, কার্যপদ্ধতি এবং সাধারণ জনগণের জন্য এর সুফল অত্যন্ত সহজ ও বাস্তবধর্মীভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নবীগঞ্জ উপজেলার গ্রাম আদালত প্রকল্পের সমন্বয়কারী জনাব রিংকু চক্রবর্তী এবং অংশগ্রহণ করেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত ইউপি চেয়ারম্যান জনাব মো: ছালিক মিয়া, 

জনাব ইউসুফ আলী, ইউপি সদস্য ০৭নং ওয়ার্ড, জনাব খালেদ হাসান দুলন, ইউপি সদস্য  ০৬নং ওয়ার্ড এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ এলাকার জনসাধারণ। নাটক পরিবেশনের পর নাটকের বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্য থেকে ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। আলোচনা পর্বে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে দেওয়ানী ও ফৌজদারি অনধিক তিনলক্ষ (৩,০০,০০০/) টাকার বিরোধ, এবং স্ত্রী কর্তৃক বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের মামলার নিষ্পত্তির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়। গ্রাম আদালতের আওতাভুক্ত মামলার ধরন,  আবেদন প্রক্রিয়া এবং সাধারণ মানুষের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে উপস্থিত জনগণকে অবহিত করা হয়।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রাম পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে জনগণের আগ্রহ ও আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণ যত বেশি অবগত হবে, তত বেশি মানুষ সহজ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের বিরোধ নিষ্পত্তিতে আগ্রহী হবে।


সাবেক এমপি নিক্সন-মির্জা আজম-ওদুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৪

সাবেক এমপি নিক্সন-মির্জা আজম-ওদুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, মির্জা আজম ও মো. আবদুল ওদুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে নিক্সন চৌধুরীর স্ত্রী তারিন হোসেন ও ওদুদের স্ত্রী মর্জিনা ওদুদকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহিম মিয়া দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

এছাড়া পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এমডি ইউসুফ আলীসহ চারজন, প্রিমিয়ার প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির চেয়ারম্যান মঈন ইকবাল ও পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরী ও মির্জা আজমের এবং দুদকের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম সাবেক এমপি ওদুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম ও মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন।

নিক্সনের আবেদনে বলা হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নিক্সন চৌধুরী ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানপূর্বক তিন সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে এরই মধ্যে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। জানা গেছে, নিক্সন চৌধুরী ও তার স্ত্রী তারিন হোসেন সপরিবারে গোপনে দেশত্যাগ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা দেশত্যাগ করে বিদেশে পালিয়ে গেলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র প্রাপ্তিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে। এছাড়াও সার্বিক অনুসন্ধানকাজে বিঘ্ন সৃষ্টিসহ সমূহ ক্ষতির কারণ রয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধান কার্যক্রমের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমন রহিত করা আবশ্যক।

মির্জা আজমের আবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মির্জা আজমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যাবহারপূর্বক বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতপূর্বক নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে দেশে-বিদেশে শত শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে তিন সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে এরই মধ্যে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, মির্জা আজম ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। তিনি দেশ থেকে পলায়ন করলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র বিনষ্টসহ অনুসন্ধানকাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে মির্জা আজমের বিদেশ গমন রহিত করা আবশ্যক।

ওদুদের আবেদনে বলা হয়েছে, আব্দুল ওদুদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাত করে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধান চলমান। অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন বলে অনুসন্ধানকালে জানা যায়। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।