শেয়ার বাজার

রামিসার মতো ফাহিমার বিচারেও এই ধরনের ঘোষণা চাই:শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

রামিসার মতো ফাহিমার বিচারেও এই ধরনের ঘোষণা চাই:শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, ‘সিলেটের ছোট্ট শিশু ফাহিমার প্রতি নৃশংস হত্যাকান্ডের ২৮দিনেও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি, চার্জশীট দাখিল হয়নি। দেশব্যাপী আলোচিত এই ঘটনার বিচার দীর্ঘসুত্রিতার দিকে গেলে আমরা ধরে নেবো বিচার হবেনা। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রামিসার কথা বলেছেন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিচার হবে, আমরা ফাহিমার বিচারেও এইধরনের ঘোষণা চাই। এর বাস্তবায়ন চাই। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফাহিমা হত্যা মামলার চার্জশীট প্রদানের জন্য পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এইধরনের ঘটনার বিচার নিশ্চিতে আমরা নিম্ন ও উচ্চ আদালতে তাদের পাশে থাকবো।’

 তিনি মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১১ টায় সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলায় পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার চার বছরের শিশু ফাহিমার বাড়ীতে গিয়ে পরিবারের পাশে সাক্ষাত শেষে উপস্থিত সাংবাদিক ও জনগণের উদ্দেশ্যে উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি তাদেরকে সহমর্মিতা জানানোর পাশাপাশি পরিবারের সার্বিক বিষয়ের খোঁজখবর নেন এবং সবসময় তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এসময় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি গ্রামবাসীদের কাছে অনুরোধ করছি আপনারা ফাহিমার বিপন্ন পরিবারটি পাশে থাকবেন। আমি কথা দিচ্ছি- আমার এবং আমাদের সংগঠন নিজের জায়গা থেকে সবসময় পরিবারের পাশে থাকবে। তাদের কপাল বদলানোর দায়িত্ব আল্লাহর। আমরা বিপদে পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব পালন করতে পারি। আমরা লোক দেখানো কোন কিছু করতে চাইনা। বাংলাদেশের যেখানে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে আমরা সীমিত সামর্থের ভেতরে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বলছি- আমি আপনার বিপদ দুর করতে পারবোনা, কিন্তু কষ্টের ভাগ নিতে এসেছি।

তিনি বলেন, যেখানেই মানুষ মজলুম হবে সেখানেই আমরা হাজির হবো। মজলুম কোন দল, মত ও ধর্মের সেটা বিবেচ্য নয়, আমরা তাকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেই পাশে দাঁড়াবো। সিলেটের দুজন মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারাও দায়িত্ব পালন করবেন। এই আসনের মন্ত্রীকে কথা দিয়েছি ফাহিমার বিচারে আমি পাশে থাকবো। আমরা দেখতে চাই এই জনপদের জন্য আপনী ভুমিকা পালন করেন।
 
বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, সমাজের লম্পটদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তাদের দৌরাত্ম বেড়ে যাবে। ফাহিমা ও রামিসাদের আর্তচিৎকার, জীবন আলো নিভে যাওয়া ও তাদের আপনজনের চোখের পানিতে নদী তৈরী হয়ে যাওয়া বর্তমানে এটি হচ্ছে বাংলাদেশের চিত্র। জাতি হিসেবে আমরা লজ্জিত, নিজেকে ধিক্কার জানাই। আমরা মাসুম বাচ্চাদেরও ইজ্জত আমরা রক্ষা করতে পারছিনা। আমরা আবার বড় বড় কথা বলি, ধমকের সুরে কথা বলি। আমাদের কারও কারও আচরণে মনে হয়- আমরা শুধু দুনিয়া না, আসমানকেও শাসন করতে পারি-নাউযুবিল্লাহ। দুনিয়া ও আসমানের শাসন করার এখতিয়ার একমাত্র সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আল-আমীনের। ক্ষমতায় কেউ গেলে তাকে বিনয়ী হওয়া উচিত। কারণ সরকার হচ্ছে জনগণের পাহারাদার। অথচ তারা দেশবাসীকে তাদের ভাড়াটিয়া মনে করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব কালপ্রিটদের খুজে বের করা ও আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব বিচার নিশ্চিত করা। ফাহিমার সাথে অপকর্ম জাকির একা করে নাই। এর সাথে তার পরিবারের লোকজনও জড়িত বলে সবাই বলেছে। তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

 এসময় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, মহানগর সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, সদর উপজেলা আমীর নাজির উদ্দিন, নায়েবে আমীর আব্দুল লতিফ লালা ও সেক্রেটারী আল ইমরান প্রমূখ।

 

গোয়াইনঘাটে নাতনিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা বাধা দেওয়ায় দাদি খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

গোয়াইনঘাটে নাতনিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা বাধা দেওয়ায় দাদি খুন

সিলেটের গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে ১৪ বছর বয়সী নাতনিকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার সময় বাঁধা দেওয়ায় দাদিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় মা-মেয়েসহ আরও ২জন গুরুত্বর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বীরমঙ্গল হাওর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে গোয়াইনঘাট থানাপুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

জানা যায়, রাতে ঘরের একটি কক্ষে মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়েছিল কিশোরী নাতনি (১৪)। আর্ত চিৎকারে দাদি গিয়ে দেখেন একদল লোক কিশোরীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। তা ঠেকাতে ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে দাদি এলাকাবাসীকে ডাকেন। ‍এসময় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে মারা যান কিশোরীর দাদি।

দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত দাদি হচ্ছেন দিলারা বেগম (৫৪)। তিনি মৃত মাহমুদ হোসেনের স্ত্রী। দুর্বৃত্তদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে আহত নাতনি (১৪) ও তার মা আহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করেছে বলে দাবি করলেও শনিবার বিকেল (৫টা) পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে অজ্ঞাত তিন যুবক দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিশোরীর চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তার হাতে কামড় দেয়। একপর্যায়ে কিশোরী চিৎকার করতে থাকলে তাকে ছুরি দিয়ে ভয় দেখাতে গিয়ে হাতে জখম করা হয়। চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে দাদি দিলারা বেগম বের হয়ে দরজার সামনে দাঁড়ান। দুর্বৃত্তরা তার বুকের ডান পাশে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাৎক্ষণিক এ দৃশ্য দেখে দুর্বৃত্তরা কিশোরীকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহতের এক আত্মীয় জানান, গভীর রাতে এমন দুর্বত্তপনায় পুরো এলাকাবাসী হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন। কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা হচ্ছিল। আহত কিশোরী তার চোখের সামনে দাদির হত্যাকাণ্ড দেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গভীর রাতে অজ্ঞাত তিন যুবক দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ওই কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।  কিশোরীর চিৎকার শুনে তার মা সাজনা বেগম এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তার হাতে কামড় দেয়। একপর্যায়ে কিশোরীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। মা-মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের রুম থেকে তার দাদি দিলারা বেগম বের হয়ে আসেন। তিনি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

প্রতিবেশী আলকাছ মিয়া জানান, একটি টিনের ঘরে দিলারা বেগম তার প্রতিবন্ধী মেয়ে, নাতনি, এক প্রতিবন্ধী নাতি এবং ছেলের বউকে নিয়ে বসবাস করতেন। পরিবারের দুই ছেলে কয়েক মাস আগে ঋণ করে জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমান। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কান্নাকাটির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দিলারা বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। অন্য আরেকটি স্থানে জখমি অবস্থায় পড়ে ছিলেন ওই কিশোরী ও তার মা।

আহত সাজনা বেগম জানান, রাতের বেলা হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দরজা খোলা দেখতে পান। বজ্রপাতের আলোয় দেখতে পান, এক ব্যক্তি তার মেয়ের ওপর চড়াও হয়েছে। বাধা দিলে ওই ব্যক্তি মেয়ের মুখ চেপে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির সময় তাকে কামড় দেওয়া হয় এবং  মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।

কিশোরীকে তুলে নেওয়া বা ধর্ষণচেষ্টার কোনো ঘটনা নয় বলে দাবি করছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢোকে কিশোরীকে অপহরণের উদ্দেশ্যে এ ঘটতে পারে। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুুলিশ কিশোরীর দাদি দিলারার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে তিনি বলেন, ‘নিহতের এক সন্তান প্রবাসী। তার সঙ্গে টাকার বিরোধ নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে এ টুকু জানা গেছে। জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।’


র‌্যাব-৯ এর অভিযানে সিলেটে ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ, আটক ১

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬

র‌্যাব-৯ এর অভিযানে সিলেটে ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ, আটক ১

স্টাফ রিপোর্টারঃ সিলেটে র‌্যাব-৯ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাচালানি পণ্যসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে| জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে র‌্যাব| রোববার (১৭ মে) র‌্যাব-৯, সিপিসি-২ সিলেটের গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়| র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৬ মে রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানাধীন শাহপরান সেতু টোল প্লাজা সংলগ্ন বাইপাস এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়| এসময় একটি নীল রঙের পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার করা হয়| অভিযানকালে পিকআপ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ৩ জনের মধ্যে একজনকে আটক করা সম্ভব হয়|

আটক ব্যক্তি হলেন সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার গোরাকপুর গ্রামের মৃত শামছুল হকের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (২৫)| অপর দুইজন কৌশলে পালিয়ে যায়| র‌্যাব আরও জানায়, আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিকআপ থেকে ভারতীয় ১ হাজার ২০৫ পিস শাড়ি, ৪ লাখ পিস ঈুঢ়ৎড়যবঢ়ঃধফরহব ঞধনষবঃং ৪সম, ২ হাজার ৩৮ পিস ঔটঝঞ উ৩ উৎড়ঢ়ং ৩০সষ এবং ৩ হাজার ৬০০ পিস ইধপরষষঁং ঈষধঁংরর ঝঢ়ড়ৎবং ঝঁংঢ়বহংরড়হ ৫সষ উদ্ধার করা হয়| প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি ¯^ীকার করেছেন, তারা ভারত থেকে অবৈধভাবে এসব পণ্য বাংলাদেশে এনে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন| এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় গোলাপগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে| আটক ব্যক্তি ও জব্দকৃত আলামত থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব| র‌্যাব-৯ জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ¯^াভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে|



প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি স্থানীয়দের
কোম্পানীগঞ্জে অবৈধ বালু বাণিজ্যে তছনছ বরমছড়া নদী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬

কোম্পানীগঞ্জে অবৈধ বালু বাণিজ্যে তছনছ বরমছড়া নদী

স্টাফ রিপোর্টার:: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বরমছড়া নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুদের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হলেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার গাছঘর, ধুপড়ীরপাড়, বতুমারা ও আশপাশের এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে বরমছড়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন। অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন গাছঘর গ্রামের ইউপি সদস্য আবুল বাশার, যুবদল নেতা আবুল কাশেম, মাসুক মিয়া, আব্দুল মুতলিব, জামিল মিয়া, ইউসুফ আলী, জুয়েল মিয়া, আনসার আলী, ইসমাইল আলী, দুলাল মিয়া, সাহেল মিয়া, আব্দুল হান্নান, শহীদ মিয়া, নুরুল আমিন মেম্বার, আজাদ মিয়া, জালাল মিয়া ও তৈয়্যব মিয়াসহ আরও অনেকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করে নদীতীরবর্তী এলাকায় বিশাল আকারে মজুদ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বতুমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে এবং ধুপড়ীরপাড় বাজারসংলগ্ন এলাকায় বড় বড় বালুর স্তূপ দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা ব্যক্তিগত বাড়িঘর নির্মাণ ও বসতভিটার উন্নয়নের কথা বললেও অধিকাংশ বালু বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, বরমছড়া নদী একটি ছোট নদী হওয়ায় অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে নদীতীর ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীপাড়ের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মসজিদ, বাজার ও সড়ক অবকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

নদীপাড়ের কয়েকজন কৃষক জানান, নদীর দুই তীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আমন ও বোরো ধানের আবাদ হয়। অব্যাহত বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশে ভারসাম্য নষ্ট হলে কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, “দিনের বেলায় প্রকাশ্যে বালু তোলা হচ্ছে। প্রশাসন চাইলে সহজেই বিষয়টি দেখতে পারে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলন পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং নদী রক্ষায় নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বরমছড়া নদী ও এর আশপাশের জনপদ বড় ধরনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে।