শেয়ার বাজার

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ২ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ২ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে সিলেট ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। বুধবার (২০মে) দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার আহসানমারা সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জমুখী একটি দূরপাল্লার বাসের সঙ্গে সিলেটগামী একটি লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর যান চলাচল স্বাভাবিক করতে শান্তিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ ও সড়ক পরিষ্কারের কাজ করেন।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে একই মহাসড়কের পাগলা মাদ্রাসাপাড়া এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও একজন প্রাণ হারিয়েছেন। শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ অলিউল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আহসানমারা সেতু এলাকায় বাস ও লেগুনার সংঘর্ষে পৃথক স্থানে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

শাল্লায় গরু
জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ জুন, ২০২৬

জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৪ নম্বর শাল্লা ইউনিয়নের মনুয়া গ্রামে তিনটি গরু জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই ইউনিয়নের ইছাকপুর গ্রামের মুশাহিদ মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কাছম আলী বাদী হয়ে শাল্লা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে মনুয়া গ্রামের পশ্চিম পাশের দেওয়ালের কান্দা এলাকায় চরে থাকা তিনটি গরু নৌকাযোগে তুলে নিয়ে যান অভিযুক্তরা। এ সময় তাদের সঙ্গে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়রা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে বলা হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মনুয়া গ্রামের মো. শামছু মিয়া, আব্দুল করিম, মো. রাশেল মিয়া, মো. বিলশ মিয়া ও মো. মোহন মিয়া জানান, তাদের সামনেই ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি মাঠ থেকে গরুগুলো তুলে নৌকায় নিয়ে যায়। বিষয়টি জানতে চাইলে অভিযুক্তরা হুমকি দেয়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তারা আর কোনো বাধা দেননি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুশাহিদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ভাই মুজাহিদ মিয়া ফোন রিসিভ করেন। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি তাদের গ্রামে সংঘটিত দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্তদের গরু তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাখা ছিল। সে কারণেই তারা গরুগুলো নিয়ে এসেছেন।

শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে থাকা এসআই শওকত আলী ইতোমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



থানার ‘বিশ্বস্ত সোর্স’ পরিচয়ে সাদ্দামের ত্রাস, এসএমপি কমিশনারের কাছে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

থানার ‘বিশ্বস্ত সোর্স’ পরিচয়ে সাদ্দামের ত্রাস, এসএমপি কমিশনারের কাছে অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ সিলেট নগরীর টিলাগড় ও শাহপরান (রহ.) থানা এলাকায় নিজেকে “শাহপরান থানার বিশ্বস্ত লোক” পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, ভূমি দখলের চেষ্টা এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে রাশেদ আহমদ ওরফে সাদ্দামের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ এনে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন শামসুদ্দীন নামের এক ব্যক্তি।

অভিযোগে বলা হয়, শামসুদ্দীনের নামে রেকর্ডভুক্ত ও নামজারিকৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন সাদ্দাম ও তার সহযোগীরা। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চললেও আদালতের রায়, সরকারি কাগজপত্র এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আদালতের সিদ্ধান্ত শামসুদ্দীনের পক্ষেই রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।ভুক্তভোগীর দাবি, সম্প্রতি সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে সীমানা পিলার অপসারণের চেষ্টা চালানো হয় এবং জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করা হয়। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সাদ্দাম প্রায়ই নিজেকে শাহপরান থানা পুলিশের ঘনিষ্ঠ ও “বিশ্বস্ত সোর্স” হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে আসছেন। বিশেষ করে টিলাগড় এলাকায় তার একটি বলয় তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, শাহপরান থানা এলাকার কিছু পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ওঠাবসাকে পুঁজি করে তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করছেন।স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, টিলাগড় এলাকার বিভিন্ন স্পটে প্রায়ই পুলিশ সদস্যদের আড্ডা ও আনাগোনা দেখা যায়। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাদ্দাম নিজের প্রভাব ও ক্ষমতার প্রচার করে থাকেন। ফলে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলেও অভিযোগ রয়েছে।লিখিত আবেদনে শামসুদ্দীন উল্লেখ করেন, প্রতিপক্ষের অব্যাহত হুমকি, দখলচেষ্টা ও প্রভাব বিস্তারের কারণে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে আশঙ্কা করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার বরাবর অভিযোগটি দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।


‘রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬

‘রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি’

সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়। ধর্ষণ চেষ্টাকালে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে পরে তাকে হত্যা করা হয়।

- চারবছরের এই শিশু হত্যার এমন রোহমর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া জাকির হোসেন। জাকির নিহত শিশু ফাহিমার প্রতিবেশি ও সর্কে চাচা। সোমবার রাতে তাকে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে সিলেটের জালালাবাদ থানা পুলিশ।

জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর তার শাস্তির দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। পরে জাকিরের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা।

এরপর জাকিরের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে ফাহিমাকে হত্যার বর্ণনা দিতে শোনা যায়।

ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে জাকির বলেন, ‘সকাল ১০টা/সাড়ে ১০টার দিকে ফাহিমাকে দুটি সিগারেট আনাই। তখন আমার ঘর খালি ছিলো। আমি তখন নেশাগ্রস্ত ছিলাম। আমি ইয়াবা খাই। তখন আমার মধ্যে কেনে যে অতো অমানুষ জাগিয়া উঠল, মেয়েটার প্রতি আমার খারার দৃষ্টি চলে যায়।’

জাকির আরও বলেন, ‘পরে মেয়েটাকে আমি রেপ (ধর্ষণ) করতে চাইছলাম (চাই), কিন্তু তখন সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভয় পেয়ে গলা টিপে মেরে ফেলি। পরে ঘরের সুটকেসের ভেতরে রাখি। দুদিন পর দেখি গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবারের মানুষ জেনে যাবে এই চিন্তায় রাতে লাশ নদীতে ফেলে দেই।’

এই ভিডিও কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা ণিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর থানরে ভেতরেই এই ভিডিও ধারণ করা হয়। এসময় জাকিরকে আরও কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদ করতে শোনা গেছে।

তবে এই ভিডওর উৎস সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি )মুজাহিদুল ইসলাম।

আর সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, শিশু ফাহিমাকে হতা মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

নিহত শিশু ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল হক স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে দিনমজুরের কাজ করেন।

গত শুক্রবার বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দুদিন আগে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলো।

সোমবার রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর ফাহিমা হত্যার বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে যৌন নির্যাতন চালিয়ে ফাহিমাকে পরে হত্যা করে। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ফাহিমাকে ব্যাগে রাখেন জাকির। পরে সেই ওড়নাসহ বাদাঘাট এলাকার ডোবায় ফেলে দেন জাকির।