নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় আব্দুল করিমকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগের মধ্যেই এবার নতুন করে এক ব্যক্তিকে টাকা না দেওয়ায় পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, একটি মামলার ওয়ারেন্টের ভয় দেখিয়ে গত প্রায় দুই বছর ধরে এক ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করত করিম সিন্ডিকেট। প্রতি মাসে আড়াই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হতো ওই ব্যক্তিকে। সম্প্রতি তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ দিয়ে তাকে গ্রেফতার করানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে একটি বিশ্বস্ত সূত্র।
অভিযোগ রয়েছে, করিম কোনো স্বীকৃত বা পেশাদার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও নিজেকে কখনো ফটো সাংবাদিক, কখনো পুলিশের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায় করে আসছেন। স্থানীয়দের দাবি, তার বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই বিভিন্ন পুলিশ সদস্যের নিয়মিত যাতায়াত ও আপ্যায়নের চিত্র পাওয়া যাবে। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর করিম আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম মামলায় জড়িয়ে মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা—জুয়া, মাদক ও তেলচুরি সিন্ডিকেটসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা থেকে করিম নিয়মিত সাপ্তাহিক ও মাসিক বখরা আদায় করেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, এসব উৎস থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।
এতসব অভিযোগের পরও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রশ্ন, “পুলিশ কি করিমের বখরার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে?”
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে “সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় করিমের দালালির দৌরাত্ম্য: মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা” শিরোনামে বিভিন্ন অনলাইন ও জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে করিমের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, কামালবাজার এলাকায় মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে করিম ডিবি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও স্থানীয় জনতা তাকে আটকে দেয়। পরে তিনি নিজেকে প্রয়াত সালিশ ব্যক্তিত্ব চৈল মিয়ার ঘনিষ্ঠ পরিচিত দাবি করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
থামছে না করিমের দৌরাত্ম্য টাকা না দেওয়ায় ‘আসামি ধরিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬








